ডেস্ক নিউজ:
ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় টুর্ণামেন্টের পর্দা উঠেছে গতকাল। ফিফা
বিশ্বকাপের এই বড় আসর চলবে আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এবারের
বিশ্বকাপটি ফুটবল ইতিহাসে বেশ কিছু কারণে অনন্য। এই প্রথমবার রেকর্ডসংখ্যক
৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে বিশ্বমঞ্চে। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে
এবারই প্রথম যৌথভাবে খেলা আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে তিনটি দেশ—আমেরিকা,
কানাডা ও মেক্সিকো।
কোন দেশ সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরবে, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে চুলচেরা তবে এর পাশাপাশি ফুটবলারদের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব
প্রমাণের লড়াইও কিন্তু কম আকর্ষণের নয়। দলগত ট্রফির পাশাপাশি ব্যক্তিগত
অর্জনের ঝুলিতে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ তিনটি ট্রফি হলো গোল্ডেন বল, গোল্ডেন
বুট ও গোল্ডেন গ্লাভস।
চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, দেখতে চোখধাঁধানো ও সোনালি হলেও এই ট্রফিগুলো কিন্তু
পুরোপুরি খাঁটি সোনার তৈরি নয়! ১৯৮২ সাল থেকে সোনালি জুতো, যার কেতাবি নাম গোল্ডেন বুট এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত
কোনো ফুটবলার একাধিকবার এই ট্রফি জিততে পারেননি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে
ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ মোট ৮টি গোল করে এটি জিতেছিলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান
এমবাপে।
নাম ‘গোল্ডেন বুট’ হলেও এটি আসলে পিতলসহ বিভিন্ন ধাতুর মিশ্রণে তৈরি একটি
ট্রফি, যার ওপর সোনার পাতলা প্রলেপ দেওয়া থাকে। এর ওজন প্রায় ১ কেজি। আজ পর্যন্ত এর আসল বাজারমূল্য প্রকাশ করেনি ফিফা
।
আরেকটি পুরস্কার গোল্ডেন বল, যা পুরো টুর্নামেন্টের সেরা
ফুটবলারকে দেওয়া হয় । ফিফা টেকনিক্যাল কমিটির তৈরি করা তালিকা থেকে সাংবাদিকদের ভোটের
মাধ্যমে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড়
হিসেবে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি দুবার (২০১৪ এবং ২০২২ সালে) এই গোল্ডেন বল
জেতার কীর্তি গড়েছেন। এটিও নিরেট সোনার নয়, মূলত ব্রোঞ্জের তৈরি একটি
ভাস্কর্য। তবে এর ওপর ১৮ ক্যারট সোনার একটি সুন্দর প্রলেপ দেওয়া থাকে।
গোল্ডেন গ্লাভস টুর্নামেন্টের সেরা গোলকিপারকে দেওয়া হয়। ১৯৯৪ সালে প্রথম
এই পুরস্কার চালু হয়। কাতার বিশ্বকাপে এই ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন
আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। অন্য দুটি ট্রফির মতো এটিও ব্রোঞ্জ দিয়ে
তৈরি এবং ওপর থেকে সোনার প্রলেপ দেওয়া থাকে।