ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিতর্কিত বক্তব্য’ প্রত্যাহার না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মসূচি করতে দেব না: হাসনাতকে মাদানীর হুঁশিয়ারি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 8, 2026 | ফটো কার্ড | সংবাদটি দেখেছেন: 72
বিতর্কিত বক্তব্য’ প্রত্যাহার না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মসূচি করতে দেব না: হাসনাতকে মাদানীর হুঁশিয়ারি ছবির ক্যাপশন :
দেশজনতা নিউজ ডেস্ক:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার সাম্প্রতিক ‘বিতর্কিত বক্তব্য’ প্রত্যাহার করে দ্রুত দুঃখ প্রকাশ না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো ধরনের কর্মসূচি বা অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।

শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। পোস্টে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও সংবেদনশীলতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের কাছে জামিয়া ইউনুসিয়া শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি তাদের আবেগ ও ভালোবাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় মানুষ ভালোবেসে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘আমাদের জামিয়া’ নামে ডাকেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ঘটনা ঘটেছে বা প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তা রক্ষায় এগিয়ে আসেন। দোকানদার, কর্মচারী, কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে নারীরাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভূমিকা রাখেন।

হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ করে দেওয়া পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানী লেখেন, ‘ঐ বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ না করলে বি-বাড়িয়ায় কোনো প্রোগ্রাম করতে পারবে না—এটা পারবে না লিখে রাখেন, ফাইনাল।’

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি ‘হাসিনা স্টাইলে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিছু করার চেষ্টা করেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। তার দাবি, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিষয়টি শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর প্রভাব দেশের অন্যান্য স্থানেও পড়তে পারে।

তবে হাসনাত আবদুল্লাহ দ্রুত নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন মাদানী। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ যেমন নিজেদের আবেগ ও সম্মানের প্রশ্নে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়, তেমনি তারা ক্ষমা করতেও জানে। কেউ ভুল স্বীকার করে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলে তাকে আবার আপন করে নেওয়ার মানসিকতাও তাদের রয়েছে।

নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘জামাই’ উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, এলাকার মানুষের আবেগ, মনোভাব ও সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তার ধারণা রয়েছে।

একই পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহর শারীরিক গঠন ও গায়ের রং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা কটূক্তি বা বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন, তাদেরও সমালোচনা করেন রফিকুল ইসলাম মাদানী।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত বিরোধের কারণে একজন ব্যক্তির শারীরিক গঠন কিংবা গায়ের রং নিয়ে মন্তব্য করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়। হাসনাত আবদুল্লাহ যদি নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন, তাহলে তাকে নিয়ে বিদ্রূপকারীরা আল্লাহর কাছে কী জবাব দেবেন—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এ ধরনের মন্তব্যকারীদের নিজেদের ফেসবুক আইডি থেকে দুঃখ প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, প্রতিবাদেরও একটি শালীন ও দায়িত্বশীল ভাষা থাকা প্রয়োজন।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা নায়েবে নবী, আমাদের প্রতিবাদও সুন্দর হওয়া চাই।’

পোস্টের শেষ দিকে হাসনাত আবদুল্লাহকে দ্রুত দুঃখ প্রকাশ করে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান তিনি। তার দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ হাসনাতকে ছোট করে কোনো সুবিধা নিতে চায় না। বরং অতীতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তার প্রতি ভালোবাসা ও ইতিবাচক মনোভাব ছিল।

রফিকুল ইসলাম মাদানীর মতে, হাসনাত আবদুল্লাহ যদি বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে বিবেচনা করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং বক্তব্য সংশোধন করে দুঃখ প্রকাশ করেন, তাহলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ তাকে আগের মতোই গ্রহণ করবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দেশজনতা

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
দেশজনতা

দেশজনতা

প্রতিবেদকের মোবাইল : 01515661574
সিরাজগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে পথসভা, ডিসি-এসপিকে

সিরাজগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে পথসভা, ডিসি-এসপিকে