ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জ সদরে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী পুনরায় বিয়ের দাবীতে অবস্থান, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 8, 2026 | ফটো কার্ড | সংবাদটি দেখেছেন: 66
সিরাজগঞ্জ সদরে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী পুনরায় বিয়ের দাবীতে অবস্থান, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার ছবির ক্যাপশন :
নিজস্ব প্রতিবেদক

তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী পুনরায় বিয়ের দাবীতে সাবেক স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। গত ৭ দিন যাবত ওই নারী সাবেক স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে অবস্থান নেওয়া ওই নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছেলের পরিবার। ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছরা ইউনিয়নের সাচালিয়া গ্রামে। এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করা হয়েছে।

তালাকের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছরা ইউনিয়নের সাচালিয়া গ্রামের সামছুল হকের ছেলে ডুয়েট ৩য় বর্ষের ছাত্র ইকবাল হাসানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আমিনা খাতুনের অভিভাবকগন জোর পূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য করেন। বিয়েতে ৪ লাখ টাকা দেনমোহরানা উল্লেখ করা হয়েছে। একারনে ডুয়েট ৩য় বর্ষের ছাত্র ইকবাল হাসানের অপূরণীয় হয়েছে। একারনে তিনি গত ১০ জুন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চিরতরে ছিন্ন করতে তালাক প্রদান করেন।

তালাকের নোটিশ পেয়ে আমিনা খাতুন ২৪ জুন ডুয়েট ছাত্র ইকবাল হাসান ও তার পিতা সহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। 

যৌতুক মামলায় তাদের জামিন হওয়ায় আমিনা খাতুনকে জোর পূর্বক ডুয়েট ছাত্র ইকবাল হাসানের বাড়িতে উঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে আমিনা খাতুন সহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে গত ২৬ জুলাই ১০৭ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন ডুয়েট ছাত্র ইকবাল হাসানের পিতা সামছুল হক।

বর্তমানে আমিনা খাতুন পুনরায় বিয়ের দাবীতে ডুয়েট ছাত্র ইকবাল হাসানের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তার পরিবার ঘরবাড়ি রেখে অন্যত্র পালিয়ে আছেন। এঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

আমিনা খাতুনের দাবী ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক ইকবাল হাসান আমাকে বিয়ে করে। এখন সে আর সংসার করতে চাই না। আমার যাওয়ার কোন জায়গা নেই। আমাদের পুনরায় বিয়ে দেওয়া হোক।

ডুয়েট ৩য় বর্ষের ছাত্র ইকবাল হাসান বলেন, আমিনা খাতুনের পরিবার আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ৪ লাখ টাকা দেনমোহরানা বসিয়ে রেজি: কাবিন মূলে বিয়ে করতে বাধ্য করেন। আমি কোন দিন তাকে আমার বাড়িতে আনি নাই। তার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক ছিলো না। জোর পূর্বক আমাকে বিয়ে দিয়েছে। আমি একজন কলেজ ছাত্র। ডুয়েটে পড়ালেখা করি। তারা আমার ছাত্র জীবন কুলশিত করেছে। তাদের বিচার হওয়া উচিত।

ডুয়েট ছাত্র ইকবাল হাসানের পিতা সামছুল হক বলেন, আমার ছেলেকে জোর পূর্বক বিয়ে দিয়েছে। আমরা কিছুই জানতাম না। তারা আমার ছেলের ছাত্র জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। আমার ছেলে আমিনাকে তালাক দিয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলাও দিয়েছে। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। তার পরও আমিনা পুনরায় বিয়ে দাবী নিয়ে আমার বাড়িতে উঠে পড়েছে। আমিনার যদি কিছু হয়ে যায় এর দায় এসে আমাদের উপর পড়ছে। আমরা বাড়িঘর রেখে অন্যত্র পালিয়ে আছি। ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পুলিশকে জানিয়েছি।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুন খান বলেন, ডুয়েট ছাত্র ইকবাল হাসানের বাবা আমার কাছে এসেছিলো। বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে অবগত করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতাদের বলা হয়েছে। মামলার বিষয়টি আদালতে সমাধান হবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দেশজনতা

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
দেশজনতা

দেশজনতা

প্রতিবেদকের মোবাইল : 01515661574
সিরাজগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে পথসভা, ডিসি-এসপিকে

সিরাজগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে পথসভা, ডিসি-এসপিকে