আরিফুর রহমান খান বাচ্চু, রায়গঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথপরিক্রমায় ৪৯ বছর পেরিয়ে আগামী ৩ মাস পর ৫০ বছরে (শুভ সুবর্ণ জয়ন্তী) পদার্পণ করতে যাচ্ছেন প্রবীণ সাংবাদিক এস এম নজরুল ইসলাম। দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতক ধরে তিনি এই মহতী পেশার সঙ্গে নিজেকে অবিচলভাবে যুক্ত রেখেছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর গল্প স্মৃতিচারণ করে বলেন, "১৯৭৭ সালে ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন পত্রিকায় আমার লেখালেখির যাত্রা শুরু হয়। আমার সাংবাদিকতার প্রথম হাতখড়ি হয় বগুড়া থেকে প্রকাশিত 'দৈনিক বাংলাদেশ' এবং পাবনা থেকে প্রকাশিত 'সাপ্তাহিক পাবনা বার্তা' পত্রিকার মাধ্যমে।"তিনি রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং রায়গঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি ও রায়গঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।
মফস্বল সাংবাদিকতার কঠিন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "মফস্বল সাংবাদিকতা পেশাটি যেন 'ঘরের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানো'র সামিল। দীর্ঘদিনের এই ত্যাগ ও সংগ্রামের পেশায় কী পেলাম আর কী হারালাম, সেটা আমার কাছে বড় কথা নয়। জীবন থেকে চলে যাওয়া দিনগুলোর চেয়ে এ পেশায় আমার সফলতা ও আত্মতৃপ্তি অনেক বেশি। এলাকার হতদরিদ্র, দুঃস্থ, অসহায় ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের পাশে থাকতে পেরেছি—এতেই আমি নিজেকে গর্বিত ও ধন্য মনে করি।"
তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘ একটানা ৪৯ বছরের এই নিষ্ঠাপূর্ণ যাত্রায় নানা চড়াই-উতরাইয়ের মাঝেও নানামুখী সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। তবে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সাধারণ গণমানুষের ভালোবাসা ও দোয়া। এই অকৃত্রিম ভালোবাসার মধ্য দিয়েই আমি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাই।"
রায়গঞ্জের স্থানীয় প্রবীণ এই সাংবাদিকের এই দীর্ঘ পথচলাকে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও তরুণ সাংবাদিকরা অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।