ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে সওজের জায়গা দখল করে যমুনা টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 | ফটো কার্ড | সংবাদটি দেখেছেন: 148
সিরাজগঞ্জে সওজের জায়গা দখল করে  যমুনা টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন : যমুনা টাওয়ার
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জ শহরের সয়াধানগড়া এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমিতে যমুনা টাওয়ার নামে ১০ তলা একটি বহুতল ভবনের অংশ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সওজের মাঠপর্যায়ের জরিপ ও পরিমাপে ভবনটির একটি অংশ অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমির মধ্যে প্রায় ৩ ফুটের বেশি প্রবেশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, ভবনটি সয়াধানগড়া মৌজার জেএল নং-৮৫-এর এসএ দাগ নং-৪৩৪ (সাবেক সিএস দাগ নং-২৬১) এবং আরএস দাগ নং-২৪২০ এলাকায় অবস্থিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাটিকুমরুল-নলকা-সিরাজগঞ্জ মহাসড়ক নির্মাণের জন্য এলএ কেস নং-১৭/১৯৭০-৭১-এর মাধ্যমে এসএ দাগ নং-৪৩৪ থেকে ১ দশমিক ৫০ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে এলএ কেস নং-১৬/২০১৭-১৮-এর মাধ্যমে একই সম্পত্তির আরএস দাগ নং-২৪২০ থেকে আরও ২ দশমিক ৫৫ শতক জমি অধিগ্রহণ করে সওজ। ফলে দুই দফায় মোট ৪ দশমিক ০৫ শতক জমি সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানায় যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই অধিগ্রহণকৃত জমির সীমানার মধ্যেই পরবর্তীতে ‘যমুনা টাওয়ার’ নির্মাণ করা হয়েছে। সওজের পরিমাপে ভবনের একটি অংশ সরকারি জমির মধ্যে পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের।

মহাসড়ক আইন, ২০২১-এর ধারা ২(১৭) অনুযায়ী মহাসড়কের সংরক্ষণ এলাকা (রাইট অব ওয়ে) থেকে উভয় পাশে ১০ মিটার অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এলাকা সংরক্ষণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হয়। একই আইনের ধারা ৯(১১)-এ ওই এলাকায় স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৭ অনুযায়ী মহাসড়কের মালিকানাধীন জমি বা মহাসড়কের ঢাল থেকে উভয় পাশে ১০ মিটারের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে স্থাপনা অপসারণসহ শাস্তির বিধানও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দার শাহারিয়া হাসান বলেন, ১০ তলা ভবনটির নকশা অনুমোদনের সময় সওজের অধিগ্রহণকৃত জমি, সংরক্ষণ এলাকা, রাইট অব ওয়ে এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না।

তার দাবি, ভবন নির্মাণের আগে সওজের কোনো কারিগরি মতামত বা ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবনটির সামনের অংশে রাস্তার তুলনায় উঁচু করে পোর্টিকো ও প্রবেশপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারে না। ফলে সড়কের পাশে ও কিছু অংশে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে।

তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার কারণে মহাসড়কের পেভমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে ভবনের প্রবেশপথ, পোর্টিকো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রকৌশলগতভাবে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি শুধু একটি ভবনের নকশা অনুমোদনের নয় সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং মহাসড়কের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।

তাদের দাবি, এলএ কেস নং-১৭/১৯৭০-৭১ ও ১৬/২০১৭-১৮-এর নথি, দাগ রেকর্ড, রাইট অব ওয়ে এবং সংরক্ষণ এলাকা চিহ্নিত করে ভবনের ভিত্তি, কলাম, দেয়াল ও প্রবেশপথের অবস্থান পুনরায় যৌথভাবে পরিমাপ করা হোক। অবৈধ অংশ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

অভিযোগের বিষয়ে যমুনা টাওয়ারের মালিক আব্দুস সামাদ বলেন, নিজেদের জায়গা বাদ দিয়ে অন্যের জায়গায় তো আর ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই। তবে অতিরিক্ত তিন ফুট জায়গা সওজের কিনা এমন প্রশ্ন শুনেই তিনি কল কেটে দেন।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, আমরা একাধিকবার নোটিশ দিয়ে জানিয়েছে। পরের বার উচ্ছেদ অভিযান হলে, সওজ এর জায়গায় গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দেশজনতা

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
দেশজনতা

দেশজনতা

প্রতিবেদকের মোবাইল : 01515661574
সর্বশেষ সংবাদ
তারাগঞ্জে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঋণ দেয়া

তারাগঞ্জে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঋণ দেয়া