Logo
প্রিন্টের তারিখ: 23 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 23, 2026

সংবাদ শিরোনাম : শেরপুরে বৃদ্ধার হাত ভাঙার অভিযোগ, বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

শেরপুরে বৃদ্ধার হাত ভাঙার অভিযোগ, বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার: আরিফুর রহমান খান বাচ্চু

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের লাঙ্গলমোড়া গ্রামে জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিচার, চলাচলের রাস্তার অধিকার ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আবির হোসেন আলম।

শনিবার (১৭ মে) উত্তরাঞ্চল সাংবাদিক সংস্থার শেরপুর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আবির হোসেন আলম। তিনি লাঙ্গলমোড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ইলেকট্রনিক্স ও ই-ওয়েস্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে আবির হোসেন আলম জানান, ১৭২৮ নম্বর দাগে তাদের মালিকানাধীন জমির প্রায় ১ দশমিক ১৫ শতক জায়গা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিনে বিরোধপূর্ণ এলাকা ও রাস্তা পরিদর্শন করেন বলে জানান তিনি।

অভিযোগ করা হয়, ইউএনওর পরিদর্শনের পরও প্রতিপক্ষ প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাস্তার সীমানার খুঁটি উপড়ে ফেলে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় আবির হোসেনের ৭৫ বছর বয়সী মা কুলসুম বেগমকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়। এতে তাঁর বাঁ হাত ভেঙে যায় বলে দাবি পরিবারের।

পরে কুলসুম বেগমকে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় থানায় মামলা (এফআইআর) হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

আবির হোসেন আলম অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মামলা করতে গেলে স্থানীয় একটি দালালচক্রের প্রভাবে পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় মামলা রেকর্ড করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বিরোধের সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রায় তিন মাস ধরে তাঁদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঘোরানো হয়েছে। সর্বশেষ উভয় পক্ষকে শুনানির জন্য ডাকা হলেও তাঁদের পরিবার উপস্থিত থাকলেও বিবাদীপক্ষ উপস্থিত হয়নি। পরে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা হওয়ায় ইউএনও কার্যালয়ে এ বিষয়ে আর বিচার করা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আবির হোসেন আলম অভিযোগ করেন, মামলার আসামিদের মধ্যে জহুরুল ইসলাম নামে একজন ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি তাঁর দাবি অনুযায়ী বিগত সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

আবির হোসেন দাবি করেন, তিনি বা তাঁর পরিবার কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপপ্রচার ও হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা করার পর আসামিপক্ষের লোকজন তাঁদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং মারধরের হুমকি দিচ্ছেন। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আবির হোসেন আলম ও তাঁর পরিবার প্রশাসন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে চার দফা দাবি জানান।

১. বৃদ্ধা কুলসুম বেগমের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।
২. পরিবারকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধ করা।
৩. ১৭২৮ নম্বর দাগের চলাচলের রাস্তা ব্যবহারে তাঁদের আইনগত ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা।
৪. প্রাণনাশের হুমকি বন্ধ করে আবির হোসেন আলম ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ভুক্তভোগী পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দেশজনতা
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ Ummah Host BD
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF