কুষ্টিয়া প্রতিনিধি;
কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, দলের একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে রামদা, হকিস্টিক, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্র অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি সোহান আহমেদসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তবে ঘটনার আরেকটি বর্ণনায় বলা হয়েছে, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা পাল্টা অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করে সংঘর্ষে রূপ দেওয়া হয়েছে। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ ও কারা প্রথম হামলা চালিয়েছে—তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সংঘর্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।